freelancing

ফ্রিলেন্সিং কি? What is freelancing? How to Earn Money Frelancing?

How to Earn Money Frelancing?

ফ্রিলেন্সিং কি? What is freelancing? ফ্রিলেন্সিং এর উৎপত্তি?

অনলাইনে একটা মার্কেটপ্লেস খোলা হয়েছিলো, তখন থেকেই মুলত ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরু। ফ্রিল্যান্সিং প্রথম শুরু হয়েছিলো ১৯৯৮ সালের দিকে। ফ্রিল্যান্সিং আসলেই বেশ মজাদার। ধরাবাধা অফিস টাইম নেই, যখন ইচ্ছে তখনি কাজ করা যায় এই কাজ হতে পারে বিভিন্ন রকম। ওয়েব ডিজাইনিং থেকে শুরু করে গ্রাফিক ডিজাইনিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বিষয়ভিত্তিক আর্টিকেল লেখা বা ডাটা এন্ট্রি হতে পারে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিষয়।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় যেখানে চাকরির বাজার বেশ নাজুক অবস্থায় আছে, যেখানে ৪৭% শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এখন বেকার, পর্যাপ্ত চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হয় না বিধায় , সেখানে বিকল্প পেশা হিসেবে সম্মানজনক অবস্থায় আছে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্তপেশা, বা আরও বিস্তরভাবে বলতে গেলে অনলাইনে চাকরি বা অনলাইন প্রফেশন। অনেক গুলো অনলাইন প্রফেশনের মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি।

বিশ্বে বাংলাদেশের দক্ষ ফ্রিলেন্সারদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে শত কোটি টাকার। হিসেব মতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার আছে ৫ লক্ষাধিক এর মত।
ফ্রিল্যান্সিং খাতে বাংলাদেশ বেশ ভাল অবস্থান করে নিয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং যেমন একটি আয়ের উত্তস, তেমনি এ নিয়ে আছে প্রচুর ভুল ধারণা, আবার ভুল ধারণাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদ। এ সব নিয়েই আলোচনা হবে এই লেখাতে।

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে কোন প্রতিষ্ঠানে পার্মানেন্ট চুক্তিবদ্ধ না হয়ে বরং প্রজেক্ট বেসিসে কাজ করা। ফ্রিল্যান্সিং জগতে মানুষ শত বছর ধরে কাজ করে আসচ্ছে। যেমন একজন অটোয়েলাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ সে অন্যের অটো চালায়, ইচ্ছা হলে প্যাসেঞ্জার নেয়, নাহলে নেয় না। তার ফ্রিডম আছে। ইদানিং ফটোগ্রাফাররাও ফ্রিল্যান্সার, কারণ তারা কোথাও ফটোগ্রাফার হিসাবে চাকরি না করে বরং অনুষ্ঠান বেসিসে শুট করে আর পারিশ্রমিক নেয়।

সুতরাং বলাযায় ফ্রিল্যান্সিং কোন কাজ নয়, কাজ করার ধরণ মাত্র।

What is freelancing? how to earn money freelancing?

এখানে দুই পক্ষ থাকেন। ফ্রিল্যান্সার আর ক্লায়েন্ট । ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে বিভিন্ন কাজ দিয়ে থাকেন, আর একটা নির্দিষ্ট সময়ের (যেটি ফ্রিল্যান্সারের ইচ্ছেমতো নির্ধারণ করা হয়) তার মধ্যে কাজ শেষ করে ক্লায়েন্টকে পাঠিয়ে দিতে হয়। ক্লায়েন্টের সাথে কাজ শুরুর আগেই চুক্তি করা হয় পারিশ্রমিক নিয়ে। কাজ হয়ে গেলে, ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারকে তার প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেয়। ব্যস, হয়ে গেল একটি সফল ফ্রিল্যান্সিং !

ফ্রিল্যান্সিং নামটা শুনে হয়তো অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভাবছেন, এসব তো প্রোগ্রামার, কম্পিউটার এক্সপার্টের কাজ। এসব জেনে আমাদের কি লাভ আছে? শুনে অবাক হবেন, ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটার সাথে এসবের কোন সম্পর্কই নেই! হ্যাঁ, অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ব্যাপারটায় এক্সপার্ট হতে হলে কম্পিউটার না্মক যন্ত্রটির সাথে ভালোই সম্পর্ক থাকা লাগে , কিন্তু তার মানে এই নয় যে ডিগ্রি থাকা লাগবে ফ্রিল্যান্সিং এর জন্যে। ঘরে বসেই অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং শেখা সম্ভব। ব্যাপারটা খোলাসা করে বলা যাক।

ফ্রিলেন্সিং শেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ :

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবচাইতে বড় যে গুণটা দরকার, তা হল নিজ থেকে বুঝে নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে, কাউকে জিজ্ঞাসা করার আগে নিজে সময় দিয়ে মাথা খাটিয়ে নেট ঘেঁটে শিখে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।  কারণ যে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবে, অবশ্যই সে নিজে অনেক ব্যস্ত থাকতে পারে, তাকে ছোট খাটো সব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাকে বিরক্ত করা ছাড়া কোন কাজ হবেনা। কিন্তু আপনি যদি নেট ঘেঁটে কিছু শেখার-জানার দক্ষতা রাখেন, আপনি যে কোন বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করে আপনার দক্ষ্যতার সাথে সফল হতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং ইন্ডাস্ট্রির একজন একজন অভিজ্ঞতা সম্পর্ন ফ্রিলেন্সার হচ্ছে এই লেখক  এবং কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, তাই গাইডলাইন হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির সব ফিল্ড নিয়ে আলোচনা করতে পেরেছেন এই লেখক। এর অর্থ এই নয় যে তিনি প্রত্যেক ফিল্ডে অভিজ্ঞ এবং দক্ষ। সব ফিল্ড নিয়ে এডভান্স লেভেলের পরামর্শ দেয়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়, তাই এ ধরণের প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থেকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

বাংলাদেশে যে সকল ট্রেনিং সেন্টারে ফ্রিল্যান্সিং বলে SEO কে বুঝানো হয়। কিন্তু সে বলবে  তিনি এসিও প্রফেশনাল আসলে এই ট্রেইনিং এ SEO এর ১০% ও শেখানো হয়না। কারণ ট্রেইনাররা ডাউনলোড করা কোর্স থেকে শেখায় যা কিনা কয়েক বছর আগেই তা পারহয়ে গেছে । আর এই খাতে প্রতিদিন নতুন নতুন আপডেট আসছে।

বলতে গেলে সম্পূর্ণ SEO এর কাজ পুরো মার্কেটের কাজের ১% এর চেয়ে কম সংখক। তার মানে আরও ৯৯% কাজ রয়েগেছে, যেগুলোতে বাংলাদেশি মানুষ নেই বললেই চলে।

চিন্তা করে দেখুন ১% কাজ ধরলাম ১০ হাজার চাকরি। কিন্তু অলিতে গলিতে ট্রেইনিং সেন্টাররা SEO ই শেখায়। সে হিসাবে SEO শেখা মানুষ লক্ষাদিকের ও বেসি। তার মানে এ খাতেও বেকারত্ব দেখা যেতে পারে

অন্যদিকে এন্ড্রয়েড ডেভেলপমেন্ট, গেইম ডেভেলপমেন্ট, থ্রিডি, অটোক্যাড, এনিমেশন, ডেটা সাইন্স এরকম কাজ গুলোতে এদেশের স্কিল্ড নেই বল্লেই চলে। এই খাতে কম্পিটিশনও কম

ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধা কি? What are the benefits of freelancing?

  • ফ্রিল্যান্সিং এর সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে শ্বাধিন ভাবে কাজ করা যায়। কাজের জন্য কোন দায়বদ্ধতা থাকে না এবং বসের বকাঝকা সুনতে লাগেনা ।
  • একটি নরমাল জবের চাইতে অনেক বেশি টাকা আয় করা যায়।
  • কাজের কোনো লিমিট নেই যখন ইচ্ছা যতক্ষন ইচ্ছা যত বেশি কাজ তত বেশি টাকা।
  • মাসে একাধিক পেমেন্ট পাওয়া যায়। যেটা কোন অফলাইন চাকরি থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।
  • কম সময় ব্যয় করে বেশি টাকা আয় করা যায় ।

ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধা কি কি? What are the disadvantages of freelancing?

প্রত্যেকটি জিনিসের বা কাজের যেমন খারাপ দিক থাকে, ঠিক তেমনটি ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রেও কিছু অসুবিধা রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারে প্রবেশ করার আগে ফ্রিল্যান্সিং এর অসুবিধাগুলো জেনে নেওয়া ভালো। কারণ না জেনে ফ্রিল্যান্সিং এর যে সমস্ত অসুবিধা রয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো।

  • কাজের কোন নিচ্চিত নিরাপত্তা বা গ্যারান্টি নেই। কোনো কোনো সময় এমন হবে, আপনি সারা মাসেও একটি কাজ পাবেন না।
  • অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা বুঝে না বিধায় ফ্রিল্যান্সিংকে সম্মানজনক জব হিসেবে মনে করে না তাই অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়
  • অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং বিষয়টা বুঝে না বিধায় ফ্রিল্যান্সিংকে সম্মানজনক জব হিসেবে মনে করে না।
  • নিজের কাজ নিজেই করতে হয়। অন্যকে দিয়ে করানোর সুযোগ থাকে না।
  • ক্লায়েন্টদের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোন সুযোগ থাকে না। যদি সরাসরি যোগাযোগ করে কোন মার্কেট প্লেস এর বাইরে তাহলে পেয়মেন্টের নিচ্চয় থাকেনা

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কত টাকা আয় করা সমভব? How much money can be earned by freelancing?

ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে কত টাকা আয় করতে পারবেন সেটা আপনার কাজের দক্ষতা (Skill) এর উপর নির্ভর করবে। আপনার কাজের কোয়ালিটি যত ভালো হবে, আপনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে তত বেশি কাজ পাবেন এবং যত বেশি কাজ পাবেন তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন। এখানে আপনার দক্ষতা দিয়ে যোগ্যতা প্রমান করে কাজের মাধ্যমে ডলার আয় করার পরিমান বুঝা যাবে । সাধারণত ফ্রিল্যান্সাররা ঘন্টা, দিন ও সপ্তাহ হিসেবে কন্ট্রাকের মাধ্যমে টাকা আয় করে। এ ক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে যার অবস্থান যত ভালো, সে তত বেশি কাজ পায় এবং বেশি টাকা আয় করতে পারে সুতরাং আপনার দক্ষতা এবং যোগ্যতার উপর নির্ভর সিল

আমাদের লার্নেস ডট কম এর আর্টিকেল কেমন লেগেছে যানাবেন এবং ফ্রিলেন্সিং এর আরো গাইডলাইন আছে সেগুলো দেখে নিবেন ধন্যবাদ আপনাকে What is freelancing?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

ads block detected

please adsblock softwer off